কারও ওপর প্রতিশোধ নেবেন না, নেতাকর্মীদের প্রতি জামায়াত আমির

কারও ওপর প্রতিশোধ নেবেন না, নেতাকর্মীদের প্রতি জামায়াত আমির

মিরপুরে দলের এক সুধী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কারও ওপর প্রতিশোধ নেবেন না। জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, ‘তবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মূলত আমাদের দেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু ইস্যু হচ্ছে সমাজকে শোষণ করার অন্যতম হাতিয়ার।’

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর মিরপুরে গ্রান্ড প্রিন্স রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

আমির আরও বলেন, ‘আমরা ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি। আমরা একই মায়ের সন্তান। তাই কোনোভাবেই সম্প্রীতি নষ্ট করা চলবে না। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে হবে। আর কোনও ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া যাবে না।’

‘মূলত ছাত্ররাই আগামীর বাংলাদেশ। তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।’ নতুন প্রজন্ম আগামী দিনের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা দেশকে অঘোষিতভাবে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে করেছিল— যা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। আওয়ামী নেত্রী জরুরি সরকারকে তাদের আন্দোলনের সফল হিসেবে দাবি করেছিলেন। কথিত এই জরুরি সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলে অবৈধভাবে ২ বছর পর্যন্ত তাদের ক্ষমতা প্রলম্বিত এবং তারা নিজেরাই ব্যাপকভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল।’

‘আর এসব দুর্নীতি ও অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতেই আওয়ামী- বাকশালীদের পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতায় আনা হয়। এই ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় এসে দেশপ্রেমী শক্তিকে বিশেষভাবে টার্গেট করে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় তারা কথিত বিচারের নামে দেশ বরেণ্য জাতীয় নেতাদের হত্যা করে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার কারণে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতার ফাঁসি, মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় কোনও কোনও নেতা কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন। আলোচনায় জামায়াত আমির তার দলের শীর্ষ নেতাদের এই পরিস্থিতির বিষয়টি ইঙ্গিত করেন।

সদ্য ক্ষমতাহীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা দেশের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে নির্যাতন চালিয়ে দেশকে এক মাফিয়াতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।  তারা কথিত উন্নয়নের নামে দেশের টাকা বিদেশ পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। বাকশালীরা সারা দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, জমি জবর দখল, টেন্ডারবাজিসহ দেশকে অপরাধ ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করে।’

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 tulshigonga24.com privacy-policy Contact Us About Us
Design BY NewsTheme