২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের পর তোলপাড় শুরু হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটে। ঘরের মাঠে ও দেশের বাইরে চারদিক থেকে ধেয়ে আসছিল হাজারো সমালোচনা। আর প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সেই সিরিজ হারের ঠিক একদিন পরই আকস্মিকভাবে ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন বিরাট কোহলি। এর আগেই তিনি টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন এবং ওয়ানডের অধিনায়কত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোহলি জানিয়েছেন, তিনি কী পরিমাণ মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে ভারতের টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়টার স্মৃতিচারণ করে কোহলি বলেন, ‘আমি তখন দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা ছিলাম। পরে নেতৃত্বের ভারও আমার কাঁধে দেয়া হয়েছিল। তখন বুঝতে পারিনি এই জোড়া চাপ আমার ব্যক্তিগত জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছিল। শেষ পর্যন্ত এমন একটা অবস্থা হয়েছিল যে, অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময়ে আমার ভেতরে (মানসিকভাবে) আর কিছুই বাকি ছিল না।’
নেতৃত্বের পাশাপাশি নিজের ফর্ম নিয়ে সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করেছিল জানিয়ে কোহলি আরও বলেন, ‘আপনি রান না পেলে দল জিতলেও প্রশ্ন উঠবে। আবার আপনি ভালো খেললেও দল হারলে প্রশ্ন উঠবে। এই দুটো বিষয় নিয়ে সব সময় ভাবতে ভাবতে আমি সত্যি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।’
কোহলি জানান, রান খরা চলার সময় নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস এতটাই কমে গিয়েছিল যে নেটে অনুশীলন করতেও দ্বিধা হতো তার। কোহলির ভাষায়, ‘সব সময় মনে হতো, আমি হয়তো ভালো খেলছি না। নেটে নামলেও ভাবতাম, তরুণেরা দেখছে। খারাপ অনুশীলন করলে ওরা প্রশ্ন করবে—এই লোকটা কী করে এত বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে!’
তবে সেই কঠিন সময়ে কোহলির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়। কোহলি বলেন, ‘রাহুল দ্রাবিড় ভাই আমার এই মানসিক অবস্থাটা বুঝতে পেরেছিলেন। ওনার নিজেরও ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতা ছিল। ওনার দেয়া দারুণ কিছু পরামর্শের পর থেকেই আমি আবার চাপমুক্ত হয়ে ক্রিকেটটা উপভোগ করতে শুরু করি।’
উল্লেখ্য, সাত বছর ভারতের টেস্ট দলের দায়িত্ব সামলে ৬৮ ম্যাচে রেকর্ড ৪০টি জয় উপহার দিয়েছিলেন কোহলি। পরিসংখ্যানের বিচারে তিনিই ভারতের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। তবে এত বছর পর তার এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, মাঠের রাজকীয় রেকর্ডের আড়ালে একজন ক্রিকেটারকে কতটা তীব্র মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
Leave a Reply