দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে, তা গুঞ্জনই। স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী সেই সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনে কথা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
Leave a Reply