অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আয়োজনের পক্ষে রায় দিয়েছেন ইউরোপের উচ্চ আদালত। রায়ে আদালত বলেছেন, ইউরোপিয়ান আইনে কোন নতুন প্রতিযোগতায় বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং নতুন কোন প্রতিযোগিতা আলোচনা আসলে তার পথ প্রসারিত করা উচিত।
আদালত অবশ্য এটাও বলেছেন, তাদের এই রায়ের অর্থ এই নয় যে, উয়েফার এখন ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালত কেবল তার রায়ে প্রস্তাবিত সুপার লিগের সম্ভাবনা নাকোচ করে দিচ্ছে না।
ইউরোপের লিগ ফুটবলে স্বপ্নের একটা প্রজেক্ট দাঁড় করতে চেয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তার ওই স্বপ্নের নাম ছিল ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। যা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরিবর্তে করতে চেয়েছিলেন তারা। ওই প্রজেক্টের সম্প্রচার স্বত্ত্বে মোটা অঙ্কের অর্থ লগ্নি করতে চেয়েছিল টেলিভিশন চ্যানেল।
পেরেজের ওই প্রজেক্টে সমর্থন দিয়েছিলেন বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তে। একে একে ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, লিভারপুল, পিএসজি, জুভেন্টাস ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ১২টি ক্লাব ওই প্রজেক্টে যোগ দেয়। কিন্তু সুপার লিগ চালু হলে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা ক্লাবগুলোকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দেয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফাও উয়েফার পাশে এসে দাঁড়ায়। ফিফা জানিয়ে দেয়, সুপার লিগে খেললে ফুটবলাররা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবেন না। সুপার লিগ প্রজেক্ট থেকে একে একে অন্যরা সরে আসলেও রিয়াল ও বার্সা নাম প্রত্যাহার করেনি। ততোদিনে বিষয়টি ইউরোপের আদালতে যায়। সেখানে রায় এসেছে যে, নতুন প্রতিযোগিতা চালু করায় বাধা দেওয়ার সুযোগ ইউরোপের আইনে নেই।
ইউরোপের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ‘উয়েফা ও ফিফা কর্তৃত্ববাদী অবস্থান নিয়েছে। তাদের এমন অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা, অনুমোদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্বাধীনতার পরিপন্থী। আদালত এটাকে তাদের সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখছে। এই রায়ের অর্থ এই নয় যে, আদালত সুপার লিগকে অনুমোদন দিতে বলছে।’
ইউরোপিয়ান সুপার লিগের সঙ্গে বিজ্ঞাপন স্বত্ত্বের চুক্তি করতে চাওয়া এ২২ স্পোর্টস টুইট করেছে, উয়েফার স্বেচ্ছ্বাচারিতা শেষ। ফুটবল মুক্ত হলো। এই রায়ে ক্লাবগুলো নিষেধাজ্ঞার খড়গ থেকে মুক্তি পেল এবং তাদের ভবিষ্যত কী হবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা পেল।’ তবে উয়েফাও বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এই রায় তথাকথিত সুপার লিগ চালুর অনুমোদন দেয় না। বরং রায়টা উয়েফার আইনের প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে পড়ে। উয়েফা ইউরোপের ফুটবলকে সম্মুনত রাখতে প্রতিজ্ঞাবন্ধ।
Leave a Reply