অনলাইন ডেস্ক:
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যা সমাধানে এবার আশার কথা শোনালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পরই তিস্তা সমস্যা নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। কলকাতার বাংলাদেশ উপহাই কমিশন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আশা ব্যক্ত করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের আমন্ত্রণে তিন দিনের ভারত সফরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লি আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। সেখানে তিস্তাসহ অন্যান্য অমিমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তার পানিবন্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এ নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো অসুবিধা নেই। এখানে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ) সরকার। আমরা সেটি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আশা করছি নিশ্চয়ই ভারতের নির্বাচনের পর এ নিয়ে একটা সমাধানে আমরা পৌঁছতে পারব এবং সেভাবেই আলোচনা হয়েছে।’
বহু প্রতীক্ষিত এই তিস্তা চুক্তির সমাধান করতে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের তরফে প্রচেষ্টা চালালেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনঢ় মনোভাবের কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন ‘এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদেরকে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে বাণিজ্য করতে হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন কিভাবে রাজ্য সরকারের সাথে বোঝাপড়া করবে সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়।’
এই সফরে ২০২৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নবায়ন করার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিন দিনের ভারত সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
দিল্লি সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের খুব আত্মিক ও উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যে সম্পর্ক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট, মিয়ানমার থেকে ভারত এবং বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ সমাধানে কিভাবে একযোগে কাজ করা যায়, একই সাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কিভাবে ফেরত পাঠানো যায় সে ব্যাপারেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’
Leave a Reply