অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ গোলে হারলো বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ গোলে হারলো বাংলাদেশ

ফিফা র‌্যাংকিং অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ২৭ এ আর বাংলাদেশ ১৮৩। শুধু র‌্যাংকিংয়ের ব্যাবধানই নয় দুই দলের খেলোয়াড়দের শক্তিমত্তা-দৈহিক কাঠামো সব কিছুরই পাথ্যর্ক অনেক। এসব পার্থক্যই যেন নির্ধারণ করে দিলো ম্যাচের ফলাফল। মেলবোর্নে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম লেগের ম্যাচে গুনে গুনে বাংলাদেশকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

মেলবোর্নে প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশকে ৭-০ ব্যবধানের বড় হার উপহার দিয়ে।

২০১৫ সালে পার্থে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশে হেরেছিল ৫-০ গোলে। ৮ বছর পর এই প্রতিযোগিতায় গোলের বোঝা বাড়লো আরো দুটি। এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা দুই থেকে তিন হওয়া ছাড়া আর কোনো অর্জন আছে কিনা সেটা মিলিয়ে দেখারও বিষয়ও আছে।

আগে রক্ষণ সামলাও, তারপর সুযোগ পেলে আক্রমণে যাও-এই মন্ত্র নিয়েই বিশ্বের ২৭ নম্বর দলের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল ১৮৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ। কোনো মন্ত্রে কিছু হয়নি।

বাংলাদেশের রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যতিব্যস্ত রেখে টপাটপ গোল আদায় করে নিয়েছে সর্বশেষ পাঁচটি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ নিজেদের সীমানা ছেড়ে ওপরে ওঠার সুযোগ পায়নি বললেই চলে।

ছিটেফোঁটা সুযোগ যাও এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার গোলমুখের দিকে এগিয়ে যাওয়ার, মাঝমাঠ থেকেই তা হয়েছে প্রতিহত। কখনো স্বাগতিক ফুটবলাররা বল কেড়ে নিয়েছেন, কখন বাংলাদেশের ফুটবলাররা ভুল পাসে বল প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দিয়েছেন।

শারীরিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই উইং ব্যবহার করে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণ। বিশ্বনাথ, তারিক, সাদ উদ্দিন আর মুরাদরা বারবার অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ডদের গতির কাছে হার মেনে মাটিতে লুটিয়েছেন।

অসম দুই দলের লড়াইটা যেমন হওয়ার কথা তেমনই হয়েছে। হারটা অনুমিতই ছিল বাংলাদেশের। দেখার ছিল হারের ব্যবধানটা কত হয়। ৮ বছর আগে দুই ম্যাচে বাংলাদেশ গোল হজম করেছিল ৯ টি। এবার এক ম্যাচেই ৭। পরের দেখায় ঘরের মাঠে এই অস্ট্রেলিয়াকে কয় গোলে আটকিয়ে রাখতে পারবে, সেটাই দেখার।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বলেছিলেন, দৈহিকভাবে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে অহেতুক সেটপিস উপহার দেওয়া যাবে না। সেটা হবে আমাদের জন্য বিপদজনক। এমনকি আজ ম্যাচের আগে সে কথাটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলে খেলোয়াড়দের। কিন্তু সেই সেটপিসেই ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল সকারুজরা।

বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে ঢোকার সময় গুডউইনকে ফাউল করেন মোহাম্মদ রিদয়। রেফারি ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে তিনিই কিক নেন। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের চেয়ে ফিজিক্যালি এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ডরা সুবিধা নেন প্রথম সুযোগেই। হ্যারির নিঁখুত হেড ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা।

ব্যবধান দ্বিগুণ করতে বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে গোলমুখে ক্রস করেন কনোর। ব্রান্ডনের প্লেসিং গোলরক্ষকের হাতের পাশ দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে।

শুরুর ঝড়ই আভাস দিয়েছিল বড় ব্যবধানে এগিয়েই বিরতিতে যাবে অস্ট্রেলিয়া। ডিউক হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন ৩৭ মিনিটে। তিন মিনিট পর ডিউকের আবার গোল। এবার বক্সের মাথা থেকে গড়ানো শটে। ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান ৫-০ করে ফেলে স্বাগতিকরা। জে বসের পাস থেকে গোল করেন ম্যাকলারেন। ৫৯ মিনিটে জামাল ভূঁইয়াকে বসিয়ে রবিউল হাসানকে মাঠে নামান কোচ ক্যাবরেরা।

একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে খেলে অস্ট্রেলিয়া ষষ্ঠ গোল করে ৭০ মিনিটে। এবারও গোলদাতা ম্যাকলারেন। ৮৪ মিনিটে দলের সপ্তম গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ম্যাকলারেন।

৯০ মিনিটে ব্যবধান ৮-০ হতে পারতো। এইডেন ওনেইলকে বক্সে ফাউল করেন বদলি ডিফেন্ডার শাকিল হোসেন। রেফারি পেনাল্টি দেন। মাসিমোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন বাংলদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের একটু উদযাপনের উপলক্ষ্য ছিল ওই পেনাল্টি ঠেকানোটাই।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 tulshigonga24.com privacy-policy Contact Us About Us
Design BY NewsTheme