সাড়ে চার বছর পর আবারও আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে এলেন বিরাট কোহলি। ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর প্রথমবার এক নম্বর আসন দখল করলেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে শীর্ষে ফিরে শুধু অবস্থানই পুনরুদ্ধার করেননি, গড়েছেন একাধিক উল্লেখযোগ্য রেকর্ডও।
২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রথমবার ওয়ানডে ব্যাটার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন কোহলি। এবার নিয়ে মোট ১১ বার এক নম্বরে উঠলেন তিনি, যা তার দীর্ঘদিনের আধিপত্যেরই প্রমাণ। আজকের দিনসহ আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে মোট ৮২৫ দিন কাটালেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ এবং সব মিলিয়ে ইতিহাসে দশম সর্বোচ্চ সময়। সবচেয়ে বেশি দিন শীর্ষে থাকার রেকর্ড এখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ভিভ রিচার্ডসের, যিনি ২৩০৬ দিন শীর্ষে ছিলেন।
মাঠে নামলেই রেকর্ড গড়ার অভ্যাস যেন কোহলির স্বভাবেই পরিণত হয়েছে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও ৯৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। সেই ইনিংসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজারের বেশি রান করা দ্বিতীয় ব্যাটার হয়ে যান কোহলি। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল শচীন টেন্ডুলকার।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে কোহলির ব্যাটে ছিল রীতিমতো আগুন ঝরা ফর্ম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে করেন ৭৪ রান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩৫, ১০২ ও ৬৫ রানের ইনিংস। সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডে ম্যাচে তার সর্বনিম্ন ইনিংস অপরাজিত ৬৫, আর এই সময়ে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি। এমন ধারাবাহিকতা ও দৃঢ়তাই তাকে আবারও র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে।
কোহলির এই উত্থানে শীর্ষস্থান হারাতে হয়েছে তারই সতীর্থ ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে। দুই ধাপ নেমে তিনি এখন তিন নম্বরে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ড্যারিল মিচেল উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। কোহলির রেটিং পয়েন্ট যেখানে ৭৮৫, সেখানে মিচেলের ৭৮৪ মাত্র এক পয়েন্ট ব্যবধানে। রোহিত শর্মা পিছিয়ে আছেন ১০ পয়েন্টে, তার রেটিং ৭৭৫।
ওয়ানডে বোলারদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষ পাঁচে কোনও পরিবর্তন আসেনি। আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রশিদ খান শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। তার পরেই আছেন জফরা আর্চার, কুলদীপ যাদব, মাহেশ থিকশানা ও কেশব মহারাজ।
অলরাউন্ডারদের র্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব শীর্ষস্থান হারিয়েছেন। তার জায়গায় আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছেন জিম্বাবুয়ের তারকা অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা।
এদিকে অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হওয়ার পর টেস্ট র্যাংকিংয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ট্রাভিস হেড সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। সাত ধাপ এগিয়ে তিনি উঠে এসেছেন টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ে তিন নম্বরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে সর্বোচ্চ ৬২৯ রান করেন হেড, গড় ছিল ৬২.৯০। এই সিরিজে তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি সেঞ্চুরি।
টেস্ট র্যাংকিংয়ে উন্নতি করা অন্যদের মধ্যে আছেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল ও অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল নেসার। শেষ অ্যাশেজ টেস্টে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে বেথেল ২৫ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২ নম্বরে উঠেছেন। তার সঙ্গে একই অবস্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের টম ব্লান্ডেল। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মাইকেল নেসার বোলিংয়ে সাত ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৪৭ নম্বরে।
পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাবও র্যাংকিংয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করতে বড় ভূমিকা রাখা শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা তিন ধাপ এগিয়ে টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তিন উইকেট নেয়ার সুবাদে পাকিস্তানের পেসার সালমান মির্জা ১৬ ধাপ এগিয়ে এখন ১৯ নম্বরে।
ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে সাহিবজাদা ফারহান এক ধাপ এগিয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ে পাঁচ নম্বরে উঠেছেন। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাও ১৩ ধাপ উন্নতি করে এখন অবস্থান করছেন ৪১ নম্বরে।
সব মিলিয়ে সাড়ে চার বছর পর ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ফিরে আবারও প্রমাণ করলেন বিরাট কোহলি কেন তিনি সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার। বয়স ৩৭ ছুঁলেও তাঁর ব্যাটিং ধার, ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা বিশ্ব ক্রিকেটে এখনো আলাদা করে নজর কাড়ছে।
Leave a Reply