শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ঘোষিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হবে। তবে, চলতি মাসের শেষদিকে এ মামলায় আপিল আবেদন করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রায়ের বিষয়ে আপিল আবেদন করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। ওইদিনই রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়েছি। তবে অনেক দেরি করে রায়ের অনুলিপি আমাকে দেওয়া হয়েছে।
রায়ে ড. ইউনূসকে সাজা দেওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়। তবে, পূর্ণাঙ্গ রায় সন্তুষ্ট করতে পারেননি ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার খণ্ডিত করে দিয়েছেন বিচারক।
ড. ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের চার কর্মকর্তাকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় বছরের প্রথম দিনই ৬ মাসের জেল দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। শর্ত ছিল এক মাসের মধ্যে আপিল করবেন তিনি। ৮৬ পাতার সেই রায় প্রকাশ হয় বৃহস্পতিবার।
রায়ে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করাসহ অন্যান্য অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে পুরো রায় পড়ে ড. ইউনূসের আইনজীবী বলেন, ন্যায়বিচারকে খণ্ডিত করেছেন বিচারক। যদিও এর সঙ্গে একমত নন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাদী বলেছেন এ ধরনের কোনো দাবি মামলার আর্জিতে করা হয়নি। অথচ ড. ইউনূসকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এতে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
কলকারাখানা অধিদপ্তরের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, এটি শ্রম আদালতের যুগান্তকারী রায়, যা ভবিষ্যতে নজির হয়ে থাকবে। ড. ইউনূসের আপিল করার সুযোগ আছে। তিনি তা করবেন। তবে আমরা সেটার বিরোধিতা করবো।
Leave a Reply