শফিকুল ইসলাম শফিক, জয়পুহাট
জয়পুরহাটে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক তরুণীর মায়ের দুই হাত-পা লাঠিসোঠাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুড়িয়ে ভেঙে দিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা উজ্জল হায়াত ও তার সহযোগীরা। জয়পুরহাট সদর উপজেলার দক্ষিণ খাসপাহুনান্দা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। তরণীর মা মেরিনা বেগম এখন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় ওই নারীর মেয়ে শোভা আক্তার বাদী হয়ে ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত উজ্জল হায়াত জয়পুরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। তিনি সদর উপজেলার পূর্ব পেঁচুলিয়া গ্রামের ছালাম উদ্দিন মোল্লার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আসামী উজ্জ্বল হায়াতের খাসপাহুনান্দাদিঘী পুকুরে কেয়ার টেকার হিসাবে দেখাশোনা করতেন ভুক্তভোগির স্বামী আকবর আলী। সেই সুবাদে উজ্জ্বল ভুক্তভোগির বাড়ীতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। সেসময় মেরিনার মেয়ের উপর কু-দৃষ্টি দিয়ে উত্যক্ত করতো সে। মেয়ে শোভা আক্তার প্রতিবাদ করিলে আসামী তাকে বিবাহের প্রলোভন দেয়। সে তাতে রাজী না হলে উজ্জল বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় শোভার বগুড়ায় বিয়ে হয়ে যায়। এতে উজ্জল আরও ক্ষিপ্ত হয়। এর এক পর্যায়ে গত ২২ জানুয়ারি মেরিনা বেগম ছাগল চরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উজ্জল তার সহযোগিদের নিয়ে মেরিনার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় লাঠিসোঠা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মেরিনাকে এলোপাথারি মারপিট করে ফেলে রেখে যায় আসামীরা। পরে স্থানীয়রা মেরিনাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন জানান, অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামী ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। মামলা নং- ২৫, তারিখ ২৭ জানুয়ারি। ধারাঃ ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪ দঃ বিঃ।
Leave a Reply